সর্লি প্যারাডক্স(বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী)
সর্লি প্যারাডক্স
অ্যালিনার সাথে সায়েন্স ফিকশন পড়ছিল ক্লাস নাইনে পড়ুয়া অ্যালেক্স।ওরা সম্পর্কে ভাই-বোন।তখন রাত ১২ টা। শীতের রাত।তাই রীতিমতো অনেক রাত ই বলা যায়।
ঘরের সবাই তখন ঘুমিয়ে পরেছে।অ্যালেক্স তখনও পড়ছিল।এর মাঝে অ্যালিনাও ঘুমিয়ে পরেছে। একপর্যায়ে অ্যালেক্স ঘুমিয়ে পরলো।
আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো, 'ছাড়ো','ছাড়ো'।অ্যালেক্স চিৎকার করছিলো।
ওরা কি যেন একটা বলছিলো!
কিন্তু অ্যালেক্স তাদের কথা কিছু বুঝলো না ।
ওরা পাঁচজন ছিলো।তখনই ওদের একজন ওর শরীরে একটা চিপ লাগিয়ে দিল।
এখন অ্যালেক্স তাদের কথা শুনতে পাচ্ছে !
এই সবকিছু ঘটেছিল স্পেসশীপ জাতীয় কিছু একটার মধ্যে !
হঠাৎ কম্পন ও তীব্র শব্দ করে স্পেসশীপ টা ল্যান্ড করলো।
এতক্ষণ অ্যালেক্স কিছু দেখতে পাচ্ছিলো না,কারণ তার চোখ বাঁধা ছিল।
স্পেসশীপ থেকে নামানো হলো আলেক্সকে।আলেক্সের চোখ খুলে দেয়া হলো।
অ্যালেক্স দেখলো এ যেনো আরেক পৃথিবী।
গাছপালায় ভরপুর। শুধু একটা পার্থক্য!
এখানকার বাসিন্দাদের চোখ ছোট; মাথা বড়!
শরীরের রং ঈষৎ নীল।
এতক্ষণে অ্যালেক্সের চোখ পড়লো তাদের দিকে যারা তাকে ধরে এনেছে।
দেখলো তারাও ওখানের বাসিন্দার মতোই হুবহু দেখতে ! কিন্তু কেন যেন মনে হলো ওরা ওই গ্রহের বিশেষ কেউ ! আমাদের পৃথিবীতে আমরা যেমন টা দেখি, পুলিশ,আর্মি এদের আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য আসে যার দ্বারা তাদের সনাক্ত করি। ওখানেও ঠিক তেমনই। ওদের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল!
ওরা বললো চলো এদিকে,
তোমাকে দিয়ে কিছু কাজ করাতে হবে।
অ্যালেক্স বললো, কি কাজ?
তারা বললো সব বুঝে যাবে
তারা অ্যালেক্সকে নিয়ে চলতে লাগলো।
আলেক্স চারদিকে দেখতে লাগলো। হঠাৎ সে সামনে একটা অর্ধবৃত্তাকার ঘরের মত দেখলো।
আলেক্স ওদের জিজ্ঞেস করলো ওটা কি?
ওরা বললো এখানেই তোমার সব কাজ!
অ্যালেক্স বিস্মিত হলো!
ওর মধ্যে একটু আতংক কাজ করছিল।
আমাকে দিয়ে এদের কি কাজ-মনে মনে ভাবলো অ্যালেক্স
গবেষণাগারে ঢোকা মাত্রই অ্যালেক্স অ্যালিনাকে সেখানে চেয়ারে বাধা অবস্থায় দেখলো।
আলেক্স দৌড়ে অ্যালিনার কাছে গেলো এবং তার বাঁধন খুলে দিল।
অ্যালিনা বললো এরা আমাকে জোর করে নিয়ে এসেছে, তুমি কিছু করো অ্যালেক্স ।
অ্যালেক্স তাদের জিজ্ঞেস করল আমাদের কেনো নিয়ে এসেছো তোমরা ?
একজনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল,
এইরকম- "কেনো?হাহাহা, আমাদের প্রয়োজনেই তোমাদের এনেছি বাচ্চারা"
ওই ঘরে ইতোমধ্যে একজন প্রবেশ করলো,দেখতে অনেকটা আমাদের পৃথিবীর রাজাদের মতোই।
উনি বলা শুরু করলেন -
তোমরা এমন এক জায়গায় এসেছো তা তোমাদের পৃথিবীর মতোই।
আমরা পৃথিবীতে যে বাসযোগ্য গ্রহ নিয়ে গবেষণা করি তেমন টা - অ্যালিনা বলে উঠলো
ওই লোকটা বললো অনেকটা, কিন্তু এখানে পৃথিবীর মানুষ থাকতে পারবে না !
আলেক্স বললো এই যে আমরা এখানেই তো !
ওই লোকটি বললো - বাচ্চারা,তোমাদের শরীরে একটা চিপ লাগিয়ে দেয়া হয়েছে যার কারণে তোমরা কিছু টের পাচ্ছো না। ওই চিপ তোমাদের এখানের ভাষা বুঝতে সাহায্য করেছ এবং বেঁচে থাকতে!
তোমরা যেমন অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারো না আমরাও তেমন মিথেন ছাড়া বাঁচতে পারি না!
আবার আসল কোথায় আসো - লোকটি বললো।
আমরা প্রযুক্তিতে তোমাদের চেয়ে অনেক উন্নত !
কিন্তু আমরা এর সঠিক ব্যবহার করতে পারি না!
আমাদের রিসার্চ বলে তোমরা নাকি এই ইউনিভার্সের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী
অ্যালিনা ও অ্যালেক্স একটু গর্ববোধ করলো
লোকটি আবার বলা শুরু করলো-
আমাদের এখানে সময় অনেক দ্রুত চলে
আমাদের এখানে ১ দিন তোমাদের পৃথিবীতে ১ ঘণ্টা মাত্র!
অ্যালেক্স ও অ্যালিনা তো 'থ' খেয়ে গেলো!
অ্যালিনা বললো লোকটা পাগল নাকি ?
লোকটি বললো তোমার ধারনা একদম ভুল!
অ্যালিনার হাতে ঘড়ি ছিল।
লোকটি বললো তোমার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেছো একবার?
অ্যালিনা তো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অবাক!
ওরা এখানে এসেছে একদিন হতে চললো, কিন্তু তার ঘড়িতে ১১:৫০ বেজে আছে।
মাত্র ৫০ মিনিট যেখানে একদিন হতে চললো !
অ্যালিনা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলোনা।
অ্যালেক্স বললো,অ্যালিনা এটাই সত্য।
আমি এরকম গ্রহ সম্পর্কে আগে শুনেছি।
ওই লোকটা আবার বলা শুরু করলো, আমাদের এখানে সময় যেহেতু পৃথিবীর চেয়ে দ্রুত চলে,তাই আমরা তোমাদের আগেই প্রযুক্তি গুলোর ধারণা পেতে যাই।
কিন্তু তোমাদের মতো আমরা তার সঠিক ব্যবহার করতে পারি না।
এর কারণ সময়ের পার্থক্য।
সময় দ্রুত ফুরিয়ে যায়, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিও পেয়ে যাই।
কিন্তু এর ব্যবহার আমরা শিখে উঠতে পারিনি।
এর জন্যই তোমাদের এখানে আনা হয়েছে।
চিরজীবনের জন্য!
অ্যালিনা কান্না করতে লাগলো,,,
অ্যালেক্স বললো, অ্যালিনা কেঁদো না।
আমাদের এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
অ্যালেক্স বললো আচ্ছা, তোমাদের যন্ত্র গুলো এখানে আনো।
তারা বললো আচ্ছা,,,,
এই নাও
অ্যালেক্স দেখলো পৃথিবীতে যেসব জিনিস বানানোর পরিকল্পনা হচ্ছে, কিন্তু ওইগুলো বাস্তব হতে আরো ৫০-১০০ বছর লাগবে,
সেই সব জিনিস ওদের ওখানে সবচেয়ে পুরনো!
এমন অনেক যন্ত্র আছে তা পৃথিবীতে কল্পনাও করা হয়নি।
এগুলো সব দেখানো হচ্ছিলো একটা স্ক্রিনে!
আলেক্স বিস্মিত!
ও ভাবতে লাগলো কি করা যায় ! শারীরিক শক্তি দিয়ে ওদের সাথে পেরে ওঠা যাবেনা !
বুদ্ধি দিয়ে কিছু করতে হবে ।
ওদের ওই ঘরটায় একলা রেখে সবাই বাইরে চলে গেলো। অ্যালিনা বললো কি করা যায় আলেক্স? আলেক্স ভাবতেছে….
চলো ঐ ঘরটা ঘুরে দেখা যাক। অ্যালিনা বললো চলো।
ওরা ওই রুম থেকে আরেক রুম এ যাওয়ার সময় দেখলো একটা ছোট জানালা আছে । আলেক্স বললো দ্রুত আসো অ্যালিনা।
সামনে গিয়ে ওরা দেখে এখন দিয়ে ওরা বের হতে পারবে!
ওই পথ দিয়ে ওরা বেরিয়ে গেলো।
বাইরে গিয়ে দেখে একপাশে কি যেনো আলোচনা হচ্ছিল।
ওরা শুনলো,
আমাদের যেভাবেই হোক পৃথিবীর সবাইকে এখানে আনতে হবে।
নাহলে আমাদের আর এই ইউনিভার্স এর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রানী হয়ে ওঠা হবে না ।
ওই বাচ্চা গুলো দিয়ে কিছু করতে হবে যার দ্বারা আমরা পৃথিবী বাসীকে এখানে আনতে পারবো।
আলেক্স আর অ্যালিনা দৌড়ে আরেকদিকে গেলো।
সেখানে ওদের মতোই বয়সের এক বাচ্চার সাথে দেখা হলো ওদের।
ওদের মধ্যে পরিচয় হলো।
ওই বাচ্চা বললো আমার নাম সর্লি।
আলেক্স ও অ্যালিনা নিজেদের পরিচয় দিল।
ওরা সব কথা খুলে বললো।
এর মধ্যেই নীল সৈনিকদের খুজ পড়ে গেলো আলেক্স-অ্যালিনাকে পাওয়া যাচ্ছে না!
সব সৈনিক অধিক ওদিক খুঁজতে লাগলো।
সর্লি ওদের বললো তারাতারি এদিকে আসো, সর্লি ওদের একটা গোপন জায়গায় নিয়ে গেলো।
যেখানে কেউ যায় না।
নীল সৈনিকরাও না!
তখন সর্লি বললো আমি একজনের রাজপুত্র, আমার বাবা হলো সার্ভি।
উনি পৃথিবীবাসীকে আখনে আনতে চায়।
কিন্তু আমি এটা চাইনা।
আলেক্স বললো তাহলে আমাদের এখান থেকে যেতে সাহায্য করো।
সর্লি বললো একটা উপায় আছে অবশ্য!
অ্যালিনা বললো দ্রুত বলো সর্লি।
সর্লি বললো চুপ, করা যেনো আসছে।
ওরা কান পেতে থাকলো।
সর্লি বললো নিশ্চই নিল সৈনিকদের বাবা পাঠিয়েছে এখানে।
তোমাদের চিন্তা নেই।এই জায়গার কথা কেউ জানে না ।
নীল সৈনিকরা চলে গেলো।
সর্লি ওদের বাইরে নিয়ে এসে বললো ঐযে দেখো ওইটা।
ওরা দেখে বললো এত বড় যন্ত্র দিয়ে কি করো তোমরা?
সর্লি বললো এটা দিয়েই তোমাদের আনা হয়েছে এবং এটা দিয়েই তোমরা যেতে পারবে।কিন্তু এটা তো সমাধান হলো না!
তোমাদের আবার আনা হবে। পুরো পৃথিবীবাসীকেও।
আর জন্য তোমাদের এই যন্ত্র নষ্ট করতে হবে।
এটা ধ্বংস হওয়ার আগে একটা দরজা খুলে যাবে।
ওখান দিয়েই তোমাদের পালাতে হবে !
আলেক্স এবং অ্যালিনা ওই যন্ত্রের সামনে গেলো।
ওখানে যত বাটন তার সব সিকিউরিটি দেয়া।
সর্লি বললো এই সমস্যার সমাধান আমি করতেছি।
ওর চোখের রেটিনা স্ক্যান করলো যন্ত্রটি!
তারপর সব বাটনের নিয়ন্ত্রণ চলে এলো অ্যালেক্সের কাছে।
ওখানে বিভিন্ন বাটন ছিলো।
এই ইউনিভার্স এর সব জায়গায় ওটার মাধ্যমে যাওয়া যেত !
ওখানে সবচেয়ে বড় বাটনটি ছিল-
"Destroy Me" !
সর্লি বললো এই যন্ত্র অনেক আগে আমার বাবার বাবা বানিয়েছিল!
পরীক্ষামূলক ভাবে তোমাদের পৃথিবী থেকে একজনকে আনা হয়েছিল।
ওনাকে দিয়ে এই যন্ত্র আরো উন্নত করা হয়েছিল।
উনি এই বাটন টি লাগিয়েছিল।
আমরা কিছুতেই বুনতে পারি নি এটা দিয়ে কি করা হয়।
কারণ এর ভাষা আমাদের বোধগম্য নয়।
এই কারণে এই বাটনে আমরা কখনো হাত দেই নি।
অ্যালেক্স বললো সর্লি এটার মানে এই বাটন এ চাপ দিলে এটা ধ্বংস হয়ে যাবে !
সর্লি বললো আর দেরি কিসের, তোমরা এটা ধ্বংস করে দাও!
আলেক্স বললো সর্লি তুমি আসলেই মহান।
নিজেদের ক্ষতি করে তুমি আমাদের সাহায্য করতেছো।
সর্লি বললো এগুলো আমার ভালো লাগে না।
আমরা যেমন আছি তেমোনই ভালো।
আলেক্স বাটন টাইট চাও দিল।
তারপর ওরা দূরে সরে গেলো।
যন্ত্র টি আস্তে আস্তে ছোট হয়ে যেতে লাগলো।
হঠাৎ সার্ভি চলে এলো তার নীল সৈনিকদের নিয়ে।
সর্লি তাদের বাঁধা দিয়ে বললো আলেক্স পালাও।
ওই যন্ত্র সম্পূর্ন ধ্বংস হয়ে এক পথের সৃষ্টি করলো।
অ্যালেক্স অ্যালিনাকে নিয়ে লাফ দিল।
আলেক্স কেপে উঠলো।
চোখ খুলে আলেক্স দেখলো তার মা তাকে ডাকতেছে। অ্যালেক্স ওঠো। অ্যালেক্স উঠে বুঝতে পারলো না ওর সাথে কি হয়েছে।
এটা কি কোনো স্বপ্ন ছিল নাকি সত্যিই এরকম কিছু ওর সাথে ঘটেছে!
রোহান পাল
মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ



Comments
Post a Comment