কৃষ্ণগহ্বর:একটি মহাজাগতিক অদৃশ্য গহ্বর।
কৃষ্ণগহ্বর:একটি মহাজাগতিক অদৃশ্য গহ্বর
কৃষ্ণ গহ্বর, নামটি শুনে হয়তো আপনি এরকম কিছু একটার চিন্তা করছেন,
" 🕳️ "
কিন্তু আমরা এটা নিয়ে কথা বলছি না।
যদি আপনি হন একজন মহাকাশপ্রেমী বা যদি আপনি মহাকাশ নিয়ে জ্ঞান রাখেন, তাহলে আমি নিশ্চিত আপনি বুঝে গেছেন আমরা এখন কি নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি।
হ্যা,সেই মহাজাগতিক বস্তু, কৃষ্ণ গহ্বর নিয়েই আমরা একটা ধারণা লাভের চেষ্টা করবো।
[কৃষ্ণগহ্বরের প্রথম ছবি
Event horizon টেলিস্কোপ ব্যবহার করে, বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কোনো কৃষ্ণগহবরের ছবি হিসেবে গ্যালাক্সি 'এম ৮৭' এর কেন্দ্রের ব্ল্যাকহোলের একটি ছবি তুলেছেন।]
যদি আপনি কৃষ্ণগহ্বরের সাথে পরিচিত না হয়ে থাকেন,তাহলে এখানে আপনার জন্য একটি সহজ ধারণা দেয়া হয়েছে।
যখন একটি তারার মধ্যে নিউক্লিয়ার রিয়েকশন বন্ধ হয়ে যায় তখন তারাটি ধ্বংস হয়ে যায়। তারাটি যদি অনেক ভর বিশিষ্ট হয় তাহলে সেই তারা শেষ মুহূর্তে সংকুচিত হয়ে ব্লাকহোল তৈরী হয়।
আশা করি,আমরা মহাকর্ষ নিয়ে জানি।
ব্ল্যাকহোলের মহাকর্ষ বল এতই বেশি যে আলো ও এর থেকে বের হতে পারে না, আলোর ফোটন কণা ব্ল্যাকহোল টেনে নেয়।
যেহেতু কোনো আলো ব্ল্যাকহোল থেকে বের হতে পারে না, সেহেতু আমরা ব্ল্যাকহোল দেখতে পাই না।
বিশেষ সরঞ্জাম ব্যাবহার করে আমাদের মহাকাশে থাকা টেলিস্কোপগুলো ব্ল্যাকহোল খুঁজে বের করে। কিন্তু ব্ল্যাকহোল তো দেখা যায় না, তাহলে টেলিস্কোপগুলো কিভাবে তাদের খুঁজে বের করে!
এই টেলিস্কোপ গুলো আসলে ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি তারাদের পর্যবেক্ষণ করে অন্য তারাদের সাথে মিলিয়ে দেখে যে তাদের আচরণ কতটা আলাদা, ব্ল্যাকহোলের কারণে তারা কতটুকু প্রভাবিত হয়েছে। এরপর বিজ্ঞানীরা একটি ব্ল্যাকহোল শনাক্ত করে।
কতটুকু হতে পারে ব্ল্যাকহোলের আকার?
একটি ব্ল্যাকহোল অনেক বড়ও হতে পারে আবার অনেক ছোটও হতে পারে।
কতটুকু ছোট হতে পারে ?
বিজ্ঞানীরা মনে করেন সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ব্ল্যাকহোল একটা পরমাণুর আকারের হতে পারে ! ভাবুন কত ছোট।
কিন্ত অবাক করার বিষয় হলো,
এদের ভর একটা পাহাড়ের সমান হতে পারে!
ব্ল্যাকহোল কতপ্রকার হতে পারে?
একপ্রকার ব্ল্যাকহোল আছে যাদের স্টেলার ব্ল্যাকহোল বলা হয়। এদের ভর ২০ টি সূর্যের থেকেও বেশি।
আমাদের ছায়াপথে এরকম অসংখ্য স্টেলার ব্ল্যাকহোল আছে।
[Chandra X-ray observatory টেলিস্কোপ থেকে তোলা আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্র]
Credits: NASA/CXC/MIT/F.K.
সবচেয়ে বড় ব্লাকহোল গুলোকে বলা হয় সুপারম্যাসিভ ব্লাকহোল। তাদের ভর এক মিলিয়ন সৌরভরের মত।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন প্রতিটা বড় গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটা সুপারম্যাসিভ ব্লাকহোলথাকে। আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রেও একটা সুপারম্যাসিভ ব্লাকহোল আছে! সেই ব্লাকহোলের নাম স্যাজিটেরিয়াস এ*।(Sagittarius A star). এই ব্লাকহোলের ভর ৪ মিলিয়ন সূর্যের মত!
[আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রের ব্লাকহোল স্যাজিটেরিয়াস এ*]
Credits: X-ray: NASA/UMass/D.Wang et al., IR: NASA/STScI
আপনাদের মনে হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে যে পৃথিবীর কখনো কোনো ব্ল্যাকহোলের মধ্যে পড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা।
না, তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
মজার ব্যাপার হলো যদি সূর্যের জায়গায় তার সমান ভরের কোনো ব্ল্যাকহোল রাখা হয়, তাহলে কিন্তু পৃথিবী তার মধ্যে পড়ে যাবে না, ব্লাকহোল টিও পৃথিবীকে তার দিকে টেনে নেবে না! কারণ ব্ল্যাকহোলটির মহাকর্ষ শক্তি সূর্যের সমানই থাকবে ।
এখন যেমন অন্যান্য গ্রহ সহ পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরছে তেমনভাবেই ঘুরতে থাকবে।
কিন্তু উৎসাহিত হয়ে লাভ নেই, এটা একটা ধারণা মাত্র। আমাদের সূর্য কখনোই একটি ব্ল্যাকহোলে পরিণত হবে না।
নাসা সহ অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠান গবেষণা করছে , আশাকরি আমরা ব্ল্যাকহোল নিয়ে আরো অনেক কিছু জানতে পারবো।
পরবর্তীতে আমরা ব্ল্যাকহোল নিয়ে আরো আলোচনা করবো।
আমাদের সাথেই থাকুন।
[References: NASA]
by - Rohan Paul

Comments
Post a Comment